চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা টয়োটা মোটরের মুনাফা কমতে পারে প্রায় ২১ শতাংশ। এক পূর্বাভাসে মুনাফার পতনের কারণ হিসেবে মার্কিন মুদ্রা ডলারের বিনিময় হারে দুর্বলতা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর রয়টার্স।
জাপানি কোম্পানিটির পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে টয়োটার পরিচালন আয় দাঁড়াবে ৩ লাখ ৮০ হাজার কোটি ইয়েন বা প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টয়োটার পরিচালন আয় ছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি ইয়েন।
চলতি বছরের এপ্রিল ও মে এ দুই মাসেই মার্কিন শুল্কের কারণে টয়োটার ১৮ হাজার কোটি ইয়েন লোকসান হয়েছে। তবে পুরো অর্থবছরে মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামা কোম্পানির জন্য সবচেয়ে বেশি লোকসানের কারণ হবে, যা প্রায় ৭৪ হাজার ৫০০ কোটি ইয়েন।
টয়েটোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কোজি সাতো এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল বলেন, ‘শুল্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো অস্পষ্ট। এ কারণে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।’
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে, যা ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে। এর প্রভাব পড়বে গাড়ির বাজারে।
মার্চে শেষ হওয়া ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে টয়োটার পরিচালন মুনাফা দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি ইয়েন হয়েছে।
অন্যান্য আন্তর্জাতিক গাড়ি কোম্পানিগুলোর মতো টয়োটাকেও মার্কিন বাজারে অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী নিয়োগ এবং উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণে বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
অবশ্য অন্য জাপানি কোম্পানির তুলনায় চীনে টয়োটার গাড়ি বিক্রি কমার হার ততটা বেশি নয়। কিন্তু চীনা ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে কোম্পানিটি।
জাপান টয়োটার সবচেয়ে লাভজনক বাজার। গত অর্থবছরের শেষ তিন মাসে এ বাজারে মুনাফা বেড়েছে ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে কোম্পানির সবচেয়ে বড় বাজার উত্তর আমেরিকায় পরিচালন লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার কোটি ইয়েন। যেখানে আগের বছর লোকসান হয়েছিল ২ হাজার ৮০০ কোটি ইয়েন। এর প্রধান কারণ ইন্ডিয়ানার কারখানায় সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ।